আবরারকে মেরে ফেলার দায় কি শুধু ওই ক’জন ছাত্রেরই?

শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২০, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

আবরারকে মেরে ফেলার দায় কি শুধু ওই ক’জন ছাত্রেরই?

আবরারকে মেরে ফেলার দায় কি শুধু ওই ক’জন ছাত্রেরই? আবরার হত্যা খুবই দুঃখজনক ঘটনা কিন্তু নতুন কিছু তো নয়। শুধু নামটাই হয়তো ভিন্ন, কিন্তু ভিন্ন মত পোষণে, কারণে অকারনে হত্যার ঘটনা এ দেশে তো নতুন কিছুই নয়। তাই আমার মতে, অবাক হবার মত কিছুই হয়নি, কারণ নতুন কিছুই তো ঘটেনি। ঘটেছে তো “হত্যা” নামক তুচ্ছ একটা ঘটনা। যদি কেউ বলেন, এ ঘটনায় অবাক হয়েছি, তাহলে আমি বলব, আপনি মিথ্যে বলছেন। কেন? এমন হত্যা কিংবা খুনের ঘটনা কি এ দেশে আগে কোনদিনই দেখেন নি?” অযাচিত হত্যার কারনে কোন মায়ের কোল এভাবে খালি হতে আগে কি কখনই দেখেন নি? অযাচিত হত্যার কারনে কোন স্ত্রীকে স্বামী হারা হয়ে অসহায় হতে আগে কি কোনদিনও দেখেন নি? বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় কোন সন্তানকে কি অসহায় অনাথ হতে আগে কোনদিনও দেখেন নি? স্বামী/সন্তান/ পিতা হারিয়ে শোকে কাতর হতে কাউকেই কি আগে কোনদিন দেখেন নি? নিশ্চয়ই সবই দেখেছেন। তাই এই ঘটনায় আর অবাক হবার অভিনয় করে অভিনয়ে নিজের পারদর্শিতা প্রমাণ করার আর প্রয়োজন নেই। আরও অনেক প্রশ্নই তো মনে জাগে। কে উত্তর দিবে? জানা থাকলেই কি কেউ বলবে? এত সাহস কার আছে? বলির পাঠা হতে কেই বা চায়? তবুও জানতে ইচ্ছে করে, আবরারকে যারা হত্যা করলো, এই হত্যাকারীদের জন্ম কি আজকে হয়েছে? এদের জন্ম যদি অনেক আগেই হয়ে থাকে কেউ কি এর শিকড় তখনই উপড়ে ফেলার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন? নাকি যাতে এরা আরো ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য গোড়া পরিস্কার করে দিয়েছিলেন? এই হত্যা কারীরাই যখন কাউকে কাউকে হত্যা করেছিল, তখন আপনি আমিই কি তাদের এমন কাজে একমত পোষণ করে, সায় দিয়ে, কাজটা সঠিক হয়েছে বলে বাহবা দিয়ে তাদেরকে বেড়ে ওঠার জন্য প্রশ্রয় দেইনি? শুরুতেই যদি এর গোড়া উপড়ে ফেলা হতো তাহলে আজ হয়তো আবরারকে এভাবে মরতে হতো না। আবরারকে মেরে ফেলার দায় কি শুধু ওই ক’জন ছাত্রেরই? এই সমাজ, এই দেশ, আপনি আমিও কি দায়ী নই? সব চোখের জলই একই রঙের হয়। সব চোখের জলই কষ্টের পরই কান্না হয়ে বেড়িয়ে আসে। সকল মায়ের কষ্টের অনুভূতিও একই রকমই হয়। সন্তান মায়ের কাছে সবসময়ই প্রাণ প্রিয়। সে হোক মেধাবী কিংবা অমেধাবী, ভাল কিংবা মন্দ। মেধাবী ছেলের জন্য যেমন তার মায়ের আত্মা পোড়ায়, তেমনি একজন অকর্মা ছেলের জন্যও তার মায়ের আত্মা একইভাবে পোড়ায়। আবরার তো মরেই গেছে। কিন্তু তার মা বাবা, আত্মীয় স্বজন, তারা তো এখন মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রনাভোগ করবে আবরারকে হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে। এমন অনেক আবরারকেই অনেকবার হত্যা করা হয়েছে। হয়তো ধরণটাই একটু ভিন্ন ছিল কেবল। আবরারকে হত্যা করা হয়েছে পিটিয়ে, আর কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আবার কাউকে ধর্ষণের পর গলা টিপে, কাউকে আগুনে পুড়িয়ে। আর ন্যায়বিচারের নমুনা তো সবারই জানা। কারোর যদি স্মৃতিভ্রম না হয়, তাহলে এ হত্যার ঘটনাগুলো এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। হত্যার মত ঘটনাকে আমি তুচ্ছ বলেছি বলেও কি অবাক হচ্ছেন? হতেও পারেন। কিন্তু আমার কাছে এ ঘটনা তুচ্ছ ঘটনাই এখন। কারন এ দেশে চাইলেই যে কেউ যে কাউকে হত্যা করতে পারে বা মেরে ফেলতে পারে। কাল আপনাকে কিংবা আমাকেও যে কেউ যে কোন অজুহাতে মেরে ফেলতে পারে। এটাও তুচ্ছ একটা ঘটনাই হবে, কারণ এই নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবেনা। ন্যায়বিচার তো বহুদুর। তাই এবার এখন থেকেই নতুন কিছু হোক- আমার দ্বারা, আপনার দ্বারা। যেখানেই যে অন্যায় দেখি, তার প্রতিবাদ হোক। হোক সেটি তুচ্ছ কোন ঘটনা কিংবা ছোট খাটো অন্যায়। ছোট ছোট প্রতিবাদ অনেক বড় অন্যায় রুখে দিতে পারে একদিন। নিজের সাথে শুধু নয়, অন্যায় অন্যায়ই। সে হোক আপনার সাথে কিংবা হোক অন্য কারোর সাথে। অন্যায়কে দেখতে হবে অন্যায় হিসাবেই। অন্যায়ের বিচার শ্রেণী-ধর্ম-বর্ণ দেখে নয়, বংশ-ক্ষমতা দেখে নয়, কিংবা অন্যায়ের পরিধি দেখে নয়। এক অন্যায়ের যদি ন্যায়বিচার হয়, দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়, তাহলে অন্যায়কারী দ্বিতীয়বার অন্যায় করার আগে হাজারবার ভাববে নিশ্চয়ই। আমাদের সবারই একটা কথা মনে রাখা উচিত, এক অন্যায় আরেক অন্যায়ের জন্ম দেয়। বড় কোন ঘটনা, বড় কোন অন্যায় দেখে রাজপথে নামার আগেই, ফুটপাতে, অলিতে গলিতে ছোটখাটো অন্যায় দেখে রুখে দাড়ান, প্রতিবাদ করুন। বড় বড় অন্যায় তাহলে হয়তো আর দেখতে হবেনা। আবরারের শোকার্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। সৃষ্টিকর্তা এই শোকার্ত পরিবারের সকলকে এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, ধৈর্য্য শক্তি দান করুন।

কে.এম রিয়াজুল ইসলাম
সাবেক সভাপতি,
তালতলী রিপোর্টার্স ইউনিটি।
তালতলী,বরগুনা।

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD