সোমবার, সকাল ৮:২৬, ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪১ হিজরী
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত : ০১৭৬৬২৩৮৮১৭
জাতীয় | আন্তর্জাতিক | খেলাধুলা | বিনোদন | রাজনীতি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন |

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও আমার কিছু কথা

আপডেট : অক্টোবর, ৫, ২০১৯, ৬:০১ অপরাহ্ণ

373

আকিব মাহমুদ:

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। মানুষ গড়ার কারিগর সকল শিক্ষকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়​ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে।বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করা না হলেও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দিবসটি পালন করে থাকে। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘তরুণরাই এই পেশার ভবিষ্যৎ’। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসটি শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়।ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পালন করা হয়। বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
আজ বিশেষ এই দিনে বিশেষ কিছু মানুষের কথা খুব মনে পরছে। যারা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন , যাদের অবদানে আমি অক্ষর জ্ঞান লাভ করেছি। এদের মধ্যে যিনি প্রথম তিনি আমার মা। আমার মা তখন বেসরকারি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। আমার হাতেখড়ি মায়ের হাত ধরেই। অক্ষর চেনাতে , পড়তে ও বুঝতে ও লিখতে শিখিয়েছেন তিনিই। মায়ের হাত ধরেই প্রথম স্কুলে যাওয়া। সেই শুরু। বেশ কয়েকবার স্কুল চেঞ্জ করাতে প্রথমদিকের শিক্ষকদের কথা খুব একটা মনে পরছে না। চেহারাটা মনে পরলেও নামটা মনে আসছে না কিছুতেই। ধীরে ধীরে বড় হলাম, এসএসসি, এইচ এস সি পাস করে ২০১৩ সালের শেষের দিকে ভর্তি হলাম অনার্সে। তখন আমি বেশ পরিনত। কবি সুকান্তর সেই ১৮ বছর বয়সী তরুন। সরকারি বিএম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। টুকটাক ক্লাস করছি।

একদিন এক শীতের ভোরের ক্লাসে কানটুপি পরে হাজির। ক্লাসে পাঠদানরত শিক্ষক তুহিন স্যার বললেন এই ছেলে দাড়াও। ভয়ে ভয়ে দাড়ালাম। স্যার বললেন কি পরেছে এটা মাথায় ? ভয়ে ভয়ে বললাম স্যরি স্যার। স্যার এবার খুব রেগে গেলেন। ধমকে বললেন তোমার বাবাকে তুমি স্যরি বলো ? বললাম না স্যার। তিনি বললেন তাহলে আমাকে কেন স্যরি বলছো ? শিক্ষকরা তো বাবার মতই। তখনই আশ্বস্ত হলাম রাগ আর চোখ রাঙানো নয় স্নেহমাখা শাসনে আগলে রাখবেন তিনি বাবার মতই। ভয়টা কেটে গেল, এরপর ধীরে ধীরে স্যারের সাথে তৈরি হল সুসম্পর্ক।

 

বিভাগের আরেকজন শিক্ষক প্রফেসর আকতার উদ্দিন চৌধুরী। প্রচন্ড রকমের রাগী মানুষ। সিনিয়র জুনিয়র সব ছাত্ররাই তাকে ভয় পায়। যেন তার কথায় বাঘে মহিষে একঘাটে জল খাবার মত অবস্থা। কিন্তু বাইরে থেকে রাগী হলেও কোমল হৃদয়ের এই মানুষটির খুব কাছাকাছি যেতে , খুব আপন হতে সময় লাগেনি বেশিদিন।

 

এরপর আসি ম্যাডামদের কাছে। কানিজ ফাতেমা ম্যাম। দেখতে অনেকটা আমার মায়ের মত। চেহারায় প্রচন্ড রকমের মিল আমার মায়ের সাথে। আমি ক্লাসে ম্যাডামকে দেখলে মনে হত আমার মা’ পড়াচ্ছেন। আমি বাসায় গিয়ে আমার মা’কে বহুবার বলেছি ম্যাডামের কথা। কিন্তু ম্যাডামকে কখনই বলা হয় নাই। একদিন একটা ঝামেলাতে ম্যাডাম নিজে থেকে এগিয়ে আসলেন আমার পাশে। সেফ করলেন একটা ষড়যন্ত্র ও বড় বিপদের হাত থেকে বাচাতে।

 

আরেকজন ম্যাডাম হলেন বিদিতা বেগ। প্রচন্ড রকমের মিষ্টভাষী আর হাসিমাখা মুখ নিয়ে ক্লাসে পড়াতেন তিনি। শুদ্ধ উচ্চারন আর তার পড়ানোর ভংগীর কারনে খুব কম ছাত্রছাত্রীই তার ক্লাস মিস করতো। আমি খুব চোর ছিলাম শুরু থেকেই। সকালের ক্লাসগুলো আমি করতাম না কখনই। যেদিন সকালের ক্লাসে উপস্থিত থাকতাম সেদিন সেই ক্লাসটা থাকতো বিদিতা ম্যামের। তার কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়েছিল লাস্ট শিক্ষা সফরে। আমাদের বাসে তিনি গান গেয়েছিলেন আমাদের সাথে। ম্যাডামকে এতটা প্রানবন্ত আর উচ্ছল দেখেছিলাম সেদিনই। কিছুদিন আগে বন্ধু সাচী নক করে বললো, আকিব আজ বিদিতা ম্যাম তোকে খোজ করেছে। বলে সবাই আছে শুধু একটা ছেলে নাই (টেস্ট পরিক্ষা)। নিশ্চুপ জল গড়িয়েছিলো সেদিন। বুঝেছিলাম গুরুর মনের কোনো এককোনে হয়ত ঠাই পেয়েছি।

 

ওহ , তারিক স্যারের কথা তো বলাই হয়নি। আগাগোড়া একজন ভদ্রলোক। তার পড়ানো আর কথা বলার ধরন সবার থেকে আলাদা করে রাখে তাকে। উপস্থাপনা, সাংস্কৃতিক আর সৃজনশীলতায় ঈর্ষনীয় দক্ষতা। বিভাগের বিভিন্ন ইভেন্টের কাজ করতে গিয়ে স্যারের কাছাকাছি আসা। খুব কাছ থেকে দেখা।

 

আর বিভাগের বর্তমান সহযোগী অধ্যাপক মামুন স্যারের সাথে পরিচয় এর শুরুটা বিবির পুকুর পার থেকে। মোকলেস ভাই আর আকতার স্যারের মাধ্যমে চিনেছিলাম তাকে। স্যার তখন ফজলুক হক কলেজে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রচন্ড রকমের স্নেহ করতেন তিনি।

 

মাহাবুবুর রহমান স্যার এর কাছাকাছি এসেছিলাম ২০১৫ সালের শিক্ষা সফরে। যেকোনো কাগজপত্র সত্যায়িত করতে গত ৫ বছরে স্যারকে খুব জ্বালিয়েছি। অন্যান্য স্যারদের থেকে তার কাছেই  বেশি যেতাম সত্যায়িত করতে।

 

নুরুল আমিন স্যার ও ফিরোজ স্যার, আপনাদের খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়নি। তবে আপনাদের থেকে পাওয়া উপদেশগুলো আজীবন মনে থাকবে। বিদায় বেলায় টি-শার্টে আপনাদের লেখা উপদেশ মনে থাকবে আমৃত্যু।

 

সবশেষে বলবো সেই মানুষটার কথা যার প্রতি প্রচন্ড রকমের ভালো লাগা, ভালোবাসা কাজ করে। শ্রদ্ধায় সম্মানে মাথা নত হয়ে যায়। সেই মানুষটা হচ্ছে সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মেথিউ সরোজ বিশ্বাস। খুব বেশিদিন ক্লাসে পাইনি, কিন্তু ক্লাসের বাইরে বিভিন্ন সভা সেমিনারে তার কথা শুনেছি বহুবার। বিশেষ করে স্যার তার বিদায় লগ্নে তার প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে যা বলে গেছেন প্রতেকটিই একেকটি দলিল। জীবন চেনাতে, জীবন এর মানে বুঝতে অনেক কিছুই শিখেছি তার কাছে।

 

আর আমার জীবনের সবথেকে মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছিলাম সেইদিন, যেদিন ড.সরোজ স্যার, তুহিন স্যার এবং আকতার স্যার একসাথে জীবন, সমাজ, সংসার, সম্পর্ক সম্পর্কে কথা বলেছিলেন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। যদিওবা সেই সমস্যাগুলো আমার ছিলো না। কিন্তু তাদের ৩ জনের থেকে পাওয়া জীবনমুখী সেই উপদেশের সাক্ষী ছিলাম আমি।

 

আপনি, আপনাদের, শিক্ষকদের ঋন কখনো শোধ করা যায় না। কোনোদিন শোধ করা যাবে না। তবুও  বিশেষ দিনে , বিশেষ দিবসে আরো একবার নত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। মাফ করবেন যেকোনো ভুলত্রুটি। আপনারা গুরু। আপনাদের থেকেই শিখবো, জানবো, বুঝবো।

লেখক: আকিব মাহমুদ
সংবাদকর্মী

সম্পাদক ও প্রকাশক: তানিয়া মাহমুদ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মিরপুর ১০ গোল চত্বর, ঢাকা
মোবাইল: +৮৮০১৭৬৬২৩৮৮১৭
ইমেইল: dhakaobserverbd@gmail.com

কারিগরি সহায়তা: AMS IT & Solutions

শিরোনাম :
★★ বরিশালে ৫১ জেলেক কারাদন্ড, ৪ লাখ মিটার জাল জব্দ ★★ ভোলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ★★ জামিন পেয়েছেন বিএনপি নেতা মেজর অবঃ হাফিজ  ★★ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষা স্থগিত ★★ পিরোজপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সংর্ঘষে আহত: ২ ★★ বিএনপি নেতা আমান-আলম কে ফাহাদের বাড়ি যেতে দেয়নি পুলিশ ★★ কনসালটেন্ট বরিশাল এর দ্বি-বার্ষিক সাধারন নির্বাচন ২০১৯ অনুষ্ঠিত ★★ ইদ্রিস ফরাজী ও হাসান ইকবাল বহিষ্কার ★★ কাউন্সিলর পদে ৭নং ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই: এগিয়ে রাশেদ জমাদার  ★★ প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরগুনার শুভ সন্ধ্যা