আবারও ভাঙলো সাতক্ষীরার আশাশুনি উপকূলের রিংবাঁধ: প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

আবারও ভাঙলো সাতক্ষীরার আশাশুনি উপকূলের রিংবাঁধ: প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম

এসএম শহীদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে আবারও ভেঙেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নে রিংবাঁধ। ফলে প্লাবিত হয়েছে  গ্রামের পর গ্রাম। সুপার সাইক্লোন আম্পানে ভেঙে যাওয়া উপকূল রক্ষাবাঁধ  দীর্ঘ ৪ মাসেও বাঁধা যায়নি। স্থানীয়রা ঝুড়ি কোদাল নিয়ে বাঁশ, বস্তা নিয়ে রিংবাঁধ বাঁধলেও তা টেকেনি জোয়ারের পানির দাপটে। প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি গ্রামগুলো।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে ও ২০ আগস্ট নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে তীব্র স্রোতে এলাকার বেড়িবাঁধ ও রিংবাঁধ ভেঙে গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। মানুষের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলের ক্ষেত, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে যায়। অনেকেই বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র চলে গেছে। রাস্তাঘাট সব ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার আবারও ভেঙেছে কুড়িকাহুনিয়া বেড়িবাঁধ। ফলে পানিতে ভাসছে গোটা এলাকা।
শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল বলেন, খোলপেটুয়া নদীর হাজরাখালি বাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়নে ২২টি গ্রাম পানিতে ভাসছে। মানুষের দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। গ্রামের পর গ্রাম পানিতে ভাসছে। স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসির সহয়তায় রিংবাঁধ দিয়েও শেষ রক্ষা করা যায়নি। অমাবশ্যার টানে জোয়ারের চাপে আবারও ভেঙেছে হাজরাখালি বাঁধ। মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অসীম চক্রবর্তী বলেন, দুই ইউনিয়নের সকল গ্রাম এখন নদীর পানিতে ডুবে আছে। এসব মানুষদের বড় অংশকে আপাতত রক্ষার উদ্দেশ্য মাথায় নিয়ে রিংবাঁধের কাজ করা হয়। কিন্তু জোয়ারের পানির চাপে রিংবাঁধেরও শেষ রক্ষা হয়নি। ফলে সকল গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আশাশুনি সদরের কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। চলতি অমাবশ্যা  গোনে নদীর পানি ও স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের ভিতরে পানি ব্যাপকভাবে ঢুকে যাচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ সকল স্থানে নতুন করে পানি বৃদ্ধি ঘটছে। মানুষের দুর্গতি আবারও বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। এসব স্থানে রিংবাঁধ রক্ষার্থে প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যা জাকির হোসেন এবং শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিলের নেতৃত্বে এলাকার মানুষ কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে ভাঙনের খবর শুনে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার আ ফ ম রুহুল হক- এমপি। শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিদর্শন শেষে শনিবার তিনি বলেন, আম্পানের পর থেকে কয়েক দফায় ভেঙেছে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বার বার রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করে বাঁধ বাঁধার চেষ্টা অব্যাহত আছে।  এ মুহূর্তে প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়স্থলে নেওয়ার জন্য তিনি এলাকায় কাজ করছেন। তার সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাও কাজ করছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকূল রক্ষায় বাঁধ সংস্কারে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি একটু কমে গেলে বাঁধ সংস্কার শুরু হবে।

Please Share This Post in Your Social Media











© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD