করোনা বিপর্যয়ের সুযোগে  লক্ষ্মীপুরে ভাড়াটিয়া সেজে : স্বর্ণালংকার লুট

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
করোনায় বন্ধ হয়নি লক্ষ্মীপুরের ইটভাটার আগুন  টাঙ্গাইলে হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল বিএনপি ফোন পাবার সাথে সাথে ১৫ পরিবারের খাবার পৌছে দিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মাদারীপুরের রাজৈরে সাংবাদিক পিতার উপর পৈচাশিক হামলা ভোলায় অসহায় পরিবারের পাশে গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা প্রবাসে থেকেও অসহায় পরিবারের পাশে প্রবাসী আবুল কাশেম ভোলায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির তীব্র নিন্দা শ্যামনগরে লিডার্সের উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন করলেন এমপি জগলুল হায়দার লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে এক বৃদ্ধের মৃত্যু : বাড়ি লকডাউন নিজ উদ্যোগে হতদরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী দিলেন প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম

করোনা বিপর্যয়ের সুযোগে  লক্ষ্মীপুরে ভাড়াটিয়া সেজে : স্বর্ণালংকার লুট

মোঃআরিফ হোসেন,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে আবাসিক বাসা ভাড়া নিতে এসে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে স্বর্ণালংকার লুট করে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। নতুন ভাড়াটিয়া সেজে ১ম দিনেই বাড়িওয়ালার বাসায় প্রবেশ করে বিভিন্ন কায়দায় প্রতারণা করে আসছে এ চক্রটি। এ চক্রে ৩জন নারী ও ৩জন পুরুষ রয়েছে।
বিভিন্ন বয়সের এ চক্রটি এসিআই ফুড লি: এর বিপনন প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এ কাজ  করে আসছে। গত ১ মাসে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৪টি বাসায় এ চক্রটি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে বাড়িওয়ালাদের কাউকে বোকা বানিয়ে, কাউকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা আছে বলেও জানান, লক্ষ্মীপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া।সরেজমিনে জানা যায়, গত ২৫মার্চ ২০২০ (বুধবার) লক্ষ্মীপুর পৌর ৭নং ওয়ার্ড গনি হেড মাষ্টার সড়কের স্বর্ণ কুঠির ভবনে এই চক্রটি প্রতারণা করে প্রায় ১২ ভরি স্বণালংকার হাতিয়ে নিয়ে যায়। ভূক্তভোগী বাড়িওয়ালা রৌশন আরা বেগম জানান, গত ২৩মার্চ ২০২০ বাড়ি ভাড়া নিবে বলে মধ্যবয়সী এক দম্পত্তি আসে।
তারা ফ্লাট দেখে প্রছন্দ করে নিতে চাওয়ায় চুড়ান্ত কথা বলার জন্য আমার দেবর সাংবাদিক মো: নজরুল ইসলাম দিপুকে ডাক দিলে সে আসে। পরে দেবর তাকে নাম, কর্ম, বাড়ি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম খলিল ব্যাপারী, বাড়ি কুমিল্লায়, এসিআই ফুড এর চৌমুহনী শাখায় বিপনন প্রতিনিধি হিসেবে আছেন, এই মাসে লক্ষ্মীপুর বদলী হয়েছেন। আগামী ১ এপ্রিল তিনি এই বাসায় উঠতে চান। এই জন্য ১ হাজার  টাকা অগ্রিমও দিয়েছেন।
এসময় আমার দেবর তার এনআইডি কার্ড দেখতে চাইলে তিনি যেদিন বাসায় উঠবেন সেদিন দিবেন বলে চলে যান। এর পরেই গতকাল বুধবার আগে আসা দম্পত্তির মধ্যে মহিলা ও তার বোন ও আত্মীয় পরিচয় দেওয়ায় আরো ২জন পুরুষ ও ২জন মহিলা ২টি বসার মোড়া, ১ টি ঝাড়ু, ১টি বালতি, ১টি রুই মাছ এনে নতুন বাসায় উঠতে চায়। তখন আমি তাদেরকে আইডি কার্ড চাইলে তারা বলেন আমার দেবর এর কাছে দিয়েছে। তখন আমি তাকে চাবি দিয়ে দি। তারা বাসায় প্রবেশ করে ঝাড়ুমোছা করতে থাকেন। পরেই এদের  মধ্যে ২জন আমাদের বাসায় এসে কলা পাউরুটি খাইতে বলে, পাকা পেপে খাইতে দেয়।
এর মধ্যে একজন সোফায় বসে একটি বাটিতে করে ২টি গোল্ড (ইমিটেশন) এর বালা রং করতে থাকেন। তখন তারা আমাকেও আমার স্বর্ণালংকার রং করে দিবে বলে জোর করে থাকেন। আমি এক প্রকার বোকার মতই হয়ে যাই। তখন আমার মাথায় কোন কাজই করছে না, আমি তাদের আমার সকল স্বর্ণালংকার (প্রায় ১২ ভরি) রং করতে দিই। কিছুক্ষন পর তারা অভিনয় কায়দায় আমার স্বর্ণগুলি একটি বাটিতে ডুকিয়ে বলে ফ্রীজ এ ৫ মিনিট রেখে দিতে।
তারপর তারা তাদের মালামাল ট্রাক এ করে আসতেছে বলে ১০ মিনিটের জন্য নিচে যায়। পরে তারা দীর্ঘক্ষনেও আর না আসায় আমি ফ্রীজ থেকে বাটি বের করে দেখি খালি বাটি। তখন বুজতে পারি তারা আমার স্বর্ণালংকার তারা নিয়ে চলে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা বাসায় প্রবেশ করেই খাওয়ার সাথে কিছু মিশিয়েছে যার কারণে আমি এমন দিশেহারা হয়ে গিয়েছি ।
খবর দিলে শহর ফাঁড়ি পুলিশের এস আই কাউসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমি এ প্রতারক চক্রকে আটক করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।এদিকে গত ১৭ মার্চ মুজিবর্ষের দিন একই কায়দায় একই ব্যক্তিগণ শহরের ৭নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডের দিদার মঞ্জিলেও প্রতারণা করে প্রায় ৪ ভরির মত স্বর্ণ নিয়ে যায়।
এছাড়াও বর্তমান বিশ্বের করোনা ভাইরাস আতংক ও বিপর্যয়ের সময়ে এই চক্রটি শহরের শাখাড়ি পাড়া ও জেবি রোডের (অজ্ঞান করে) ২টি বাসায়ও একই কায়দায় এই প্রতারণা করে আসছে। তবে তারা সব বাসায়ই একই মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে আসছে। এছাড়াও সব বাসায়ই প্রথমে ১ হাজার  টাকা এডভান্স ও বাসায় উঠার সময় ১টি রুই মাছ ও মোড়া, বালতি ও স্বর্ণ রং করার কায়দা করে আসছে।  সুকৌশলে না পারলে, অজ্ঞান করে ও চুরিঘাত করে স্বর্ণ হাতিয়ে নেয় বলেও জানা যায়।মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে এই চক্রটি শহরের বিভিন্ন বাসায় এ কাজ করে আসছে ।
এদেরকে প্রতিহত না করতে পারলে এই দুর্যোগের মধ্যে মানুষ দিশেহারা হয়ে যাবে ও সামাজিক অবক্ষয় হবে মন্তব্য করেন সাধারণ বাড়িওয়ালারা।এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, এ বিষয়ে শহর ফাঁড়িকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তদন্ত ও প্রতারক চক্রকে আটক করতে কাজ করছে। পুলিশকে ভূক্তভোগীরা বিভিন্ন তথ্য ও সচেতন থেকে সহযোগিতা করতেও তিনি অনুরোধ জানান।সাম্প্রতিক সময়ে এ চক্রের কর্মকান্ড ও  ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান পিপিএম (সেবা) বলেন, থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।এদিকে বিশ্বব্যাপী এই করোনা বিপর্যয়ের মধ্যে সারা দেশ যখন স্থবির। তখন এই অসাধু প্রতারক চক্রের কর্মকান্ডে হতাশ শহরের বাড়িওয়ালারা। তাদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে প্রশাসন সুনজর দেওয়া উচিত বলেও জানান বিভিন্ন স্তরের বাড়িওয়ালারা।

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD