পোনাবালীয়া ইউপি চেয়ারম্যানের চোরাই গাছ বাদুরতলায় রাজাপুর থানা পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

News Headline :
করোনায় বন্ধ হয়নি লক্ষ্মীপুরের ইটভাটার আগুন  টাঙ্গাইলে হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল বিএনপি ফোন পাবার সাথে সাথে ১৫ পরিবারের খাবার পৌছে দিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মাদারীপুরের রাজৈরে সাংবাদিক পিতার উপর পৈচাশিক হামলা ভোলায় অসহায় পরিবারের পাশে গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা প্রবাসে থেকেও অসহায় পরিবারের পাশে প্রবাসী আবুল কাশেম ভোলায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির তীব্র নিন্দা শ্যামনগরে লিডার্সের উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন করলেন এমপি জগলুল হায়দার লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে এক বৃদ্ধের মৃত্যু : বাড়ি লকডাউন নিজ উদ্যোগে হতদরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী দিলেন প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম

পোনাবালীয়া ইউপি চেয়ারম্যানের চোরাই গাছ বাদুরতলায় রাজাপুর থানা পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝালকাঠির রাজাপুরে চোরাইকৃত অর্ধলাখ টাকার সরকারি শিশু গাছ পুলিশের অনুমতিতে গভীর রাতে কড়াত কলে ফারাই করার পর পুলিশের সহযেগিতায় পালিয়ে যাবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদুরতলা বাজার সংলগ্ন মনিরউজ্জামান মল্লিক এর ‘স’ মিলে এ ঘটনা ঘটে।
সরকারী চোরাই গাছ ‘স’ মিলে ফারাই করা হচ্ছে এমন অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চোরাই গাছ জব্দ না করে উল্টো ফারাই করে নিয়ে যেতে বলায় পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানাগেছে রাজাপুর উপজেলার পাশ্ববর্তী ঝালকাঠি সদর থানার পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান চোরাইকৃত প্রায় অর্ধলাখ টাকার ছয়টি সরকারি শিশু গাছ কেটে রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী বাদুরতলা বাজার সংলগ্ন মনিরউজ্জামান মল্লিক এর ‘স’ মিলে রাতের অধারে ফারাই করতে পাঠায়।
পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের পাঠানো বিপুল পরিমান চোরাই গাছ ‘স’ মিলে ফারাই করার জন্য পাঠানো সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৪নংওয়ার্ডের চৌকিদার রফিক মিলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় এবং সাথে সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদারকে বিষয়টি অবহিত করে। চেয়ারম্যান মিল মালিককে গাছ যেমন রয়েছে ঠিক তেমন রেখে মিল বন্ধ করার পরামর্শ দেন।
খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের এসআই খোকন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে পুনরায় ‘স’ মিল চালু করে ঐ চোরাইকৃত শিশু গাছ গুলো ফারাই করে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। ‘স’ মিলের মালিক মনিরউজ্জামান মল্লিক পুলিশের অনুমতি পেয়ে গাছ ফারাই করতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়ফুট মাপের আস্ত সাতটুকরা ও বাকি গাছগুলো ফারা অবস্থায় ট্রলারে দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদারকে অবহিত করেন।
সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পরে থানা পুলিশের এসআই খোকন রাত বারটার দিকে আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারাইকৃত গাছগুলো ট্রলারে করে নিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদার ‘স’ মিলে উপস্থিত হয়ে আস্ত সাত টুকরা সরকারী শিশু গাছ উদ্ধার করে ‘স’ মিল মালিক মনিরুজ্জামানের জিম্মায় দিয়েছেন। ‘স’ মিলে গাছ নিয়ে আসা চেয়ারম্যানের সহযোগী রিপন হাওলাদার বলেন, চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান আমাদের ট্রলারে করে ৬ টি মুল গাছ ৩৩ টুকরো করে মিলে ফারাই করতে পাঠিয়েছে।
এরমধ্যে দুটি সরকারী গাছ ও বাকি গাছগুলো তার নিজের বাগানের। ঝালকাঠি পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান বলেন, ঐ গাছ গুলো আমার নিজের বাগানের। আমি আমার লোকজন দিয়ে ‘স’ মিলে ফারাই করতে পাঠিয়েছি। স্থানীয় মিল মালিকদের দন্দের কারনে এ ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এসআই খোকন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা অবস্থায় এক টুকরা ও আস্ত সাত টুকরো গাছ পেয়ে জব্দ করে ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি।
শুনেছি ঐ গাছ গুলো পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান তার লোকজন দিয়ে মনিরুজ্জামানের ‘স’ মিলে ফারার জন্য পাঠিয়েছেন। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদার বলেন, সকালে বাদুরতলায় মনিরুজ্জামানের ‘স’ মিলে উপস্থিত হয়ে কাটা অবস্থায় এক টুকরা এবং আস্ত ছয় টুকরা সরকারী শিশু গাছ মিল মালিকের জিম্মায় রেখে এসেছি।

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD