সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে মৃত্যুর ৩ বছর পরে মৃত ব্যক্তিকে দাতা দেখিয়ে জমি বিক্রয়!

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে মৃত্যুর ৩ বছর পরে মৃত ব্যক্তিকে দাতা দেখিয়ে জমি বিক্রয়!

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে মারা যাওয়ার ৩ বছর পরে ওই মৃত ব্যক্তিকেই দলিল দাতা সাজিয়ে ৭ শতক সম্পত্তি রেজিষ্ট্রিমূলে লিখে নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় বইছে সমালোচনার ঝড়!
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকার খঞ্জনদিয়ার মহল্লার মৃত ফাজিল প্রামাণিকের ছেলে আস্তুল প্রামাণিক গত ০১/০৪/১৯৪৩ ইং সালে শ্রী ছকি প্রামাণিক, শ্রী আজিজল শেখ, ছোরহাব আলী, মফিজ উদ্দিন শেখ এবং এফাজ উদ্দীন শেখদের কাছ থেকে ২০ শতক ভুমি ক্রয় করেন।
যার মৌজা দ্বারিয়াপুর, সিএস খতিয়ান নং- ৩১২, দাগ নং-৪৮৮৩, ২৬ শতকের কাতে ১০ শতক ভুমি এবং ৪৮৮৯ দাগে ১৪ শতকের কাতে ১০ শতকসহ মোট ২০ শতক ভুমি। গত এসএ রেকর্ডের সময় উক্ত ৪৮৮৩ নং দাগে ১৬ শতক এবং ৪৮৮৯ দাগে ১৪ শতক ভূমি ৫৩৬ নং খতিয়ানভুক্ত হয়ে আস্তুল প্রামাণিকের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। উক্ত মূল মালিক আস্তুল প্রামাণিক গত ১৬/০৪/১৯৬৬ ইং তারিখে মারা যায়।
শাহজাদপুর পৌরসভা থেকে দেয়া তার মৃত্যু সনদে ‘বনওয়ারী নগর ফরিদপুরে নৌকাডুবি’তে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৬/০৪/১৯৬৬ ইং তারিখে আস্তুল প্রামাণিক মারা গেলেও মৃত্যুর ৩ বছর পরে গত ১৪/০৪/১৯৬৯ ইং তারিখে খোষ কবলা ৩২৯৫ নম্বর দলিলে তাকে দাতা দেখিয়ে পাশর্^বর্তী উল্লাপাড়া উপজেলার খাশের চর গ্রামের মৃত হাতেম আলী তালুকদারের ছেলে ওয়ারেছ আলী তালুকদার বরাবর ৭ শতক ভুমি হস্তান্তর দেখানো হয়েছে যা সম্পূর্ণই অসম্ভব ও হাস্যকর বটে! উক্ত আস্তুল প্রামাণিকের নামে গত এসএ রেকর্ডে ৫৩৬ খতিয়ানে ৪৮৮৩ নং দাগটি পরিশুদ্ধভাবে রেকর্ড হওয়া সত্বেও উক্ত ৩২৯৫ নং দলিলে দাতা আস্তুল প্রামাণিকের নামে সেই বিবরণ না দিয়ে শুধুমাত্র সিএস রেকর্ডের দাগ-খতিয়ান উল্লেখ করা হয়েছে যা অত্যন্ত সন্দেহের বিষয়! কারণ; আস্তুল প্রামাণিক প্রকৃতপক্ষে তো ১৯৬৬ ইং সালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আর তাকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিলটি তৈরি করা হয়েছে ১৯৬৯ ইং সালে। সন্দেহের সুস্পষ্ট আরেকটি কারণ হলো যে, উক্ত ভ‚মির সিএস খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহের জন্য রেকর্ডরুম সিরাজগঞ্জ এ জাবেদা নকলের আবেদন করলে গত ২৩/০৭/২০১৭ ইং তারিখে যে তথ্য (ইনফরমেশন) কপি দেয়া হয়েছে তাতে ‘প্রদান না করার কারণ। প্রার্থীত খতিয়ানের পাতা ছেড়া থাকায় জাবেদা নকল সরবরাহ করা গেলো না’। জাল দলিল তৈরি করে ক্রয়ের পর ওয়ারেছ আলী তালুকদার উক্ত ৭ শতক ভ‚মি তার নামে খাজনা খারিজও করে নেন। গত আরএস জরিপামলে এসএ ৪৮৮৩ নং দাগটি ৭ শতক ভ‚মি ওয়ারেছ আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত না হয়ে আলতাব হোসেন গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ায় জাল দলিলমূলে প্রাপ্ত ওয়ারেছ আলী তালুকদার আলতাব হোসেন গংদের বিরুদ্ধে মোকাম শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অপর প্রকার ২২৬/২০১১ নং রেকর্ড সংশোধনী মামলা দায়ের করেন।
ওয়ারেছ আলী তালুকদার গত ১৩/০১/২০১৮ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশগন কায়েম মোকাম করে বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনা করে আসছেন। উক্ত জাল দলিলের গ্রহীতা ওয়ারেছ আলী তালুকদার গত ইং ২৭/০৩/২০০৮ তারিখে উক্ত ৭ শতক ভুমির এসএ ৫৩৬ নং খতিয়ান উল্লেখ করে হামিদা বেগম, পিতা: মরহুম হাতেম আলী তালুকদার, স্বামী : মরহুম রশিদুল হক, মাতা: মরহুম জায়েদা খাতুন, গ্রাম : মণিরামপুর, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ বরাবর ২৩৬৯ নং হেবানামা ঘোষণাপত্র মূলে ১৪ শতক ভ‚মি হস্তান্তর করেছেন।
মৃত্যুর ৩ বছর পরে সেই ব্যক্তিকে দাতা দেখিয়ে এসএ ৪৮৮৩ নং দাগের ৭ শতক ভ‚মির হস্তান্তর ও অন্যান্য মামলা এবং তার বিষয়াদি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর সে বিষয়গুলোর পরিশুদ্ধ সমাধান দেয়া একমাত্র মাননীয় আদালতেরই ক্ষমতা আছে বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD