দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও বেকার মুক্ত করার স্বপ্ন দেখা কি রফিকুল আমিনের অপরাধ?

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও বেকার মুক্ত করার স্বপ্ন দেখা কি রফিকুল আমিনের অপরাধ?

সেলিম রেজা:
দেশকে অর্থনীতি মুক্তি ও বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা কি জেলবন্দী রফিকুল আমিনের অপরাধ ছিল। এই প্রশ্ন উত্তর আজও অজানা রয়ে গেছে, ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবার সহ এর সাথে জড়িত প্রায় ৩ কোটি মানুষের।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ মাল্টিলেভেল মাকেটিং কোম্পানী ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আত্ন প্রকাশ ঘটে। এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় একটি ডাইরেক্ট সেলিং বিপননের মধ্যদিয়ে।

 

বাংলাদেশে এম,এল,এম এর গুরু ড. মোঃ রফিকুল আমীন এর আবিস্কারক। আর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এর জনপ্রিয়তা শীর্ষে অবস্থান করে। এর সাথে যুক্ত হতে থাকেন দেশের লাখ লাখ মানুষ। যা আজ ৪৫ লাখে রূপান্তরিত হয়ে এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট আর ৩ কোটি জনগনের সম্পৃক্ত ঘটেছে। এর উপর নির্ভরশীল হয়ে যারা সুখে ছিল আজ ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা বেকার হয়ে দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। ওদের যেন মুক্তি মিলছে না কিছুতেই।

 

শুনছেন না কেউ ওদের মানবেতর জীবনের করুন কাহিনী। তবুও ওরা আজও বাঁচার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে । অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ডেসটিনির আবিস্কারক মোঃ রফিকুল আমীন বাংলাদেশ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর কানাডাতে চলে যান।

 

সেখানে চাকরী করার প্রক্রিয়ায় ডাইরেক্ট সেলিং এর উপরে ব্যাপক ধারনা ও প্রশিক্ষন লাভ করেন। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি বিপনন বিদ্যায় এম বি এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ডাইরেক্ট সেলিং প্রক্রিয়াটাকে বাংলাদেশের স্বল্প শিক্ষিত যুব সমাজের ব্যাপক হারে কর্ম সংস্থানের একটি উপায় বলে মনে করেন। ফলে তিনি কানাডা থেকে চাকরী ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এবং এদেশের যুব সমাজের বেকারত্বেও অভিসাপ থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখেন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ডেসটিনি-২০০০ লিঃ নামে একটি ডাইরেক্ট সেলিং বিপনন কোম্পানী।

 

বিভিন্ন আমদানীকৃত ইলেকট্রনিক পণ্যাদি হারবাল পণ্যাদি ইত্যাদি ডাইরেক্ট সেলিং প্রতিক্রিয়ায় বিক্রয়ের মধ্যদিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তারা মনে করেন, সমাজের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিপনন ব্যবস্থার অবদান নিতান্তই অপ্রতুল।

 

পক্ষান্তরে মোঃ রফিকুল আমীন বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জনমানসিকতার সাথে খাপ খাইয়ে যে বিপনন পদ্ধতি উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করেছিলেন তা হল একজন পরিবেশক বা ডিষ্ট্রিবিউটর কোম্পানীর সুনিদিষ্ট প্রথা পদ্ধতি অনুসরন করে ১টা হতে শুরু করে যে কোন সংখ্যক পণ্য ভোক্তার নিকট গিয়ে সরাসরি বিক্রয় করতে পারেন। আবার যে কোন একজন ভোক্তা কোম্পানীর নিদিষ্ট মূল্যমানের কোন পণ্য ক্রয় করে ডিষ্ট্রিবিউটর হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

 

অথচ এম,এল,এম সম্পর্কে ভুল তথ্য গুটি কয়েক পত্রিকায় প্রকাশ করে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, সরকারকে এ কথা বলা হয়েছে যে, প্রান্তিক পর্য্যায়ে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এম এল,এম) দ্বারা প্রতারিত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কারন কোম্পানীর ভোক্তাকে বিভিন্ন বই পুস্তক, প্রশিক্ষন প্রদান করে এম, এল,এম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করে প্রথমে ১ জন ক্রেতা ২ জন ইত্যাদি ক্রমে ১-২-৪-৮-১৬ বাড়তে থাকে। আরও ভুল বলা হয়েছে যে এভাবে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত প্রতারনায় পর্যবসিত হতে পারে।

 

 

অথচ ব্যাপারটা ছিল সম্পূর্ন ভুল ও মনগড়া একটি প্রতিবেদন। এম,এল,এম এই পদ্ধতি হলো একজন ভোক্তা মূল্য পরিশোধ করার পর পরই পণ্যটি গ্রহন করবেন, আবার যেহেতু পণ্য না থাকলে মূল্য পরিশোধ করার প্রশ্ন আসে না। সে কারনে কোন ভোক্তারই, তা তিনি প্রথম ভোক্তা হোন বা সর্বশেষ ভোক্তা হোন, কোন অবস্থাতেই তার প্রতারিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

 

মূল্য পরিশোধ করে পণ্য প্রাপ্তির পর তিনি ইচ্ছা করলে কোম্পানীর সহিত চুক্তিবদ্ধ হয়ে এবং প্রশিক্ষন গ্রহন করে ডিষ্ট্রিবিউটর হয়ে পরবর্তীতে ভোক্তাদের নিকট পণ্য বিক্রয় করে কমিশন অর্জন করতে পারেন। অর্থাৎ একজন আগ্রহী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে কোন বিনিয়োগ ছাড়াই একজন ডিষ্ট্রিবিউটর হতে পারেন এবং শুধুমাত্র প্রশিক্ষন ও কঠোর পরিশ্রম করেই কালক্রমে বড় ব্যবসায়ী হতে পারেন, যা প্রচলিত বিপনন ব্যবস্থায় কোন ভাবেই সম্ভব না।

 

জনাব মোঃ রফিকুল আমীন পণ্য বিক্রয়ে ডিষ্ট্রিবিউটরদের উদ্বুুদ্ধকরন ও আর্থিক প্রনোদনার লক্ষ্যে একজন ডিষ্ট্রিবিউটর সরাসরি ২ জন ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করে ২ জন ডিষ্ট্রিবিউটর তৈরী করা , ২ জন ডিষ্ট্রিবিউটর ৪ জন ডিষ্ট্রিবিউটর তৈরী করা, ৪ জনে ৮ জন এ রূপ বহুসংখ্যক ডিষ্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্ক তৈরী করার এবং প্রতিটি পণ্যের বিক্রয় হতে অর্জিত কমিশন একটি নিদিষ্ট অনুপাতে বিক্রয়ে অংশ গ্রহনকারী ডিষ্ট্রিবিউটদের মধ্যে স্বয়ক্রিয় পদ্ধতিতে বন্টন করার পদ্ধতি চালু করেন।

 

যেহেতু ডিষ্ট্রিবিউটরগন কয়েকটা পর্যায়ে সুনিদিষ্ট হায়বারর্কি অনুযায়ী সংগঠিত হয়ে বিক্রয় কার্য্য সম্পন্ন করেন এবং কমিশন অর্জন করেন তাই অনেকেই এই পদ্ধতিটাকে মাল্টিলেভেল মাকেটিং বা এম,এল,এল পদ্ধতি নামেও অভিহিত করে থাকেন। অথচ দুঃখের বিষয় হতভাগ্য এ দেশে হলুদ মিডিয়ার কারণে আজ ডেসটিনির ২৫ লাখ যুবক এবং ১৩ লাখ নারী বেকার হয়ে পড়েছে দীর্ঘ ৮ বছর। অথচ জনবান্ধব এই সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

 

 

( মতামত ক্যাটাগরীতে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের, পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক কেউ এর দায়ভার গ্রহণ করবে না )

Please Share This Post in Your Social Media











© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD