বরিশালের ইতিহাস- নামকরন ও উল্লেখযোগ্য স্থান

মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২০, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

বরিশালের ইতিহাস- নামকরন ও উল্লেখযোগ্য স্থান

আকিব মাহমুদ, বরিশাল: রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মভূমি বরিশাল। কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেসে গড়ে ওঠা এই শহরের পুরাতন নাম চন্দ্রদ্বীপ। ধারনা করা হয় পূর্বে এখানে খুব বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো, আর এই বড় শাল গাছের কারণে (বড়+শাল) বরিশাল নামের উৎপত্তি। খাল বিল জলাভূমিতে ভরা বরিশালে যাতায়াতের অসুবিধাকে মাথায় রেখে চালু হয়েছে কথা আইতে শাল যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল। কেউ কেউ দাবি করেন, পর্তুগীজ বেরি ও শেলির প্রেমকাহিনীর জন্য বরিশাল নামকরণ করা হয়েছে। অন্য এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকা নবাবদের বড় বড় লবণের গোলা ও চৌকি ছিল। ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা বড় বড় লবণের চৌকিকে ‘বরিসল্ট’ বলতো। অথাৎ বরি (বড়)+ সল্ট(লবণ)= বরিসল্ট। আবার অনেকের ধারণা এখানকার লবণের দানাগুলো বড় বড় ছিল বলে ‘বরিসল্ট’ বলা হতো । পরবর্তিতে বরিসল্ট শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নামে পরিচিতি লাভ করে।

ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে বরিশাল জেলার উত্তরে চাঁদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা; দক্ষিণে ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা; পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় থানা রয়েছে ১৪টি। যার মধ্যে সংসদ নির্বাচনী এলাকা ৬টি, পৌরসভা ৬টি  এবং ৮৭টি ইউনিয়ন। এছাড়াও রয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ২৪,৮৭,০১২ জন জনসংখ্যার এই জেলায় রয়েছে ১,১১৬টি গ্রাম।

দর্শনীয় স্থান স্থান হিসেবে রয়েছে সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, শহীদ কাজী আজিজুল ইসলাম এর সমাধি, বধ্যভূমি,মুক্তিযুদ্ধের টর্চার সেল, গুঠিয়া মসজিদ, অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর, হযরত মল্লিক দূত কুমার শাহ রাঃ এর মাজার, লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি,কলসকাঠী জমিদার বাড়ি, প্রাদ্রিশিবপুর গীর্জা, কসবা সমজিদ গৌরনদী, মাহিলাড়া মঠ, উলানীয়া জমিদার বাড়ি, চরামদ্দী মুঙ্গাখাঁন জামে মসজিদ, চাঁদশী ঈশ্বর চঁন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সফিপুর ইউনিয়নের হিজল তলার বিল, চলচিত্র প্রজোযক আরিফ মাহমুদের বাড়ি, অক্সফোর্ড মিশন বিদ্যালয়,  দুর্গাসাগর দিঘী, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, প্লানেট পার্ক, ৩০ গোডাউন, কীর্তনখোলা নদী, আবদুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু।

 

নানান গুনীজন জন্মগ্রহন করেছেন এই এলাকায়। যাদের মধ্যে শের-ই বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস, হানিফ সংকেত, স্পীকার আঃ জব্বার খান, স্পীকার আব্দুল ওহাব খান, আগা বাকের খান, বরিশাল্ সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন, চলচ্চিত্রশিল্পী মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, মাসুম পারভেজ রুবেল, কবি আহসান হাবীব, কলামিস্ট সাদেক খান, রাজনীতিবীদ বেগম সেলিমা রহমান, রাজনীতিবীদ এনায়েত উল্লাহ খান, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মেজর এম এ জলিল, (মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার) বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, চারণ কবি মুকুন্দ দাস ,দানবীর মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত, অমৃত লাল দে, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ,রাজনীতিবিদ শরত্চন্দ্র গুহ , শিক্ষাবিদ কালীচন্দ্র ঘোষ, চারুশিল্পী বলহরি, কবি সুফিয়া কামাল, কবি কুসুমকুমারী দাশ, কবি কামিনী রায়, সরদার ফজলুল করিম, রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ,আবদুল জব্বার, আবদুল লতিফ ,কবি আসাদ চৌধুরী, চারণ কবি সম্রাট মুকুন্দ দাস

, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বসু, মনোরমা মাসীমা( বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবী), কবি মোজাম্মেল হক, বিমল সেন (সাহিত্যিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী), আবদুল গাফফার চৌধুরী, খান বাহাদুর হাশেম আলী খান, সৈয়দ হাতেম আলী, খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দিন খান, বৃটিশ বিরোধী কৃষক নেতা ও শহীদ রহিমউল্লা কবি হুমায়ূন কবির, সশস্ত্র বৃটিশ বিরোধীে বিপ্লবী বলখী শাহ,জারীসম্রাট আবদুল গনি বয়াতী, ঔপন্যাসিক অমরেন্দ্র ঘোষ

রাজনীতিবীদ আমির হোসেন আমু, শাহরিয়ার নাফীস (ক্রিকেটার), অভিনেতা মোশাররফ করিম

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী( ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ২ জন মহিলা স্নাতকের একজন এবং ইউরোপীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক)

শশিভূষণ দাশগুপ্ত( লেখক, অধ্যাপক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও সাহিত্যিক)

বরুণ সেনগুপ্ত (একজন ভারতীয় সাংবাদিক) যাদের মধ্যে অন্যতম।

 

শুধু তাই নয় একসময় প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত ছিল বরিশাল জেলায়। এটি বাংলাদেশ-এর একটি অন্যতম সুন্দর জেলা। দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের একটি মূল উৎস এই বৃহত্তর বরিশাল। বরিশালে একটি নদীবন্দর রয়েছে যেটি দেশের অন্যতম প্রাচীন, দ্বিতীয় বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীবন্দর।

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD