আম্ফানে কেড়ে নিলো বানিশান্তার যৌনপল্লীর মেয়েদের বসতঘর

বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২০, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
লালমোহনে সাংবাদিকের কাছে চাঁদা দাবী করল কথিক হোন্ডা নেতা সম্রাট বগুড়ায় এক প্রতিবন্ধী’র লাশ উদ্ধার কয়রায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন করলেন সাংসদ বাবু বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন কয়রায় কৃষকের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে ধান ক্রয় উদ্বোধন করলেন সাংসদ বাবু কয়রায় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে সাংসদ বাবু’র খাদ্য সামগ্রী বিতরন কয়রায় বানভাসি মানুষের পাশে মানব কল্যাণ ইউনিট কয়রায় সাংসদ সদস্য বাবুর নির্দেশনায় স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙ্গনে রিং বাঁধ সমাপ্ত কয়রায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেঁড়িবাধ মেরামত করছে আওয়ামী লীগ ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের ব্যাপক চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা

আম্ফানে কেড়ে নিলো বানিশান্তার যৌনপল্লীর মেয়েদের বসতঘর

পাপ্পু সাহা:
মংলা বন্দরের পশুর নদীর পশ্চিম পাড়ে যৌনপল্লী বানিশান্তার অবস্থান। ১৯৫৪ সালে মংলা বন্দরের বিদেশী নাবিকদের ঘিরে গড়ে ওঠে বানিশান্ত পতিতাপল্লী। এক সময়ে ভরা যৌবন ছিল বানিশান্তা যৌনপল্লীর। ভাল নেই বানিশান্তার যৌনকর্মীরা। অর্থকষ্ট তাদের এখন নিত্যসঙ্গী। পশুর নদীর আছড়ে পড়া ঢেউয়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্নটুকু।

সমাজে ঠাঁই নেই, তাই পেটের দায়ে পল্লীতে পড়ে আছে যৌন কর্মীরা, খদ্দের নেই, রয়েছে দাদা-মাসি আর প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণ। এত সব কিছু সহ্য করার পরেও আবার সাইক্লোন আম্ফানে কেড়ে নিলো তাদের থাকার জায়গাটুকু। কথা হয় বানিশান্তা যৌনপল্লীর সভানেত্রী রাজিয়া বেগমের সাথে, তিনি বলেন আমাদের এ পল্লীতে মোট ৯২ পরিবার ও ৩৭টি বাড়ি, আমাদের উপর যেন মরার উপর খাড়ার ঘা, করোনা ভাইরাসের কারনে এমনিতেই কোন লোকজন নাই, তারপর আবার অম্ফানে কেড়ে নিল ঘরবাড়ি।

আমরা কোন রকম জীবনে বেচে গেলেও রক্ষা হয়নি আমাদের ঘর বাড়ি মালামাল গুলো, চুলা জ্বালানোর মত পরিস্থিতিও নাই। এখনো কেউ আমাদের কোন রকম সাহায্য করেনি,  শুধু দেখেই গেছেন, আর এই ওয়ার্ডের মেম্বর ফিরোজ ভাই খিচুরি দিয়ে গেছিল কালকে, তাই খেয়ে একবেলা খিদা মেটাইছি। কথা হয় বানিশান্তা ইউনিয়নের সমাজ সেবক বিনয় কৃষ্ণ সরদারের সাথে, তিনি বলেন বানিশান্তার রেখামারি টু আমতলার রাস্তাঘাট, বসতভিটা, মৎস্য ঘের, যৌনপল্লী সহ বানিশান্তার নদীর পার্শ্বে এবং রাস্তার ভিতরে যারা বসবাস করে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, মাননীয় মহিলা এমপি, মাননীয় হুইপ, জেলা প্রশাসক ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মমতাময়ী মায়ের দৃষ্টি আকষন করছি এই অবহেলিত বানিশান্তার বাশির জন্য।

মুঠো ফোনে কথা হয় বানিশান্তা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ আলী খা এর সাথে, তিনি বলেন বানিশান্তার রেখামারি টু আমতলার নদীর পার্শ্বে যারা বসবাস করে তাদের সর্বশ্ব কেড়ে নিছে আম্ফান ঝড়ে, আগুন জ্বালিয়ে রান্না করার মত তাদের পরিস্থিতি নাই , তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। আমি গত দিন ইউপি চেয়ারম্যানের নিদের্শে আমার তত্বাবধানে ৩৫০ প্যাকেট খিচুরি ব্রথেল ও অসহায় মানুষকে দিয়েছি।

আমি সমাজের বৃত্তবান সহ সকলকে এই অবহেলিত মানুষের পার্শ্বে দাড়ানোর জন্য সবিনয় আহব্বান জানাই। ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media










© AMS Media Limited
Developed by: AMS IT BD